স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধা জেলার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মিসেস দেওয়ান মাহামুদ লিটাকে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ। সাঘাটা উপজেলার পুত্রবধূ এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি, এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে অনলাইন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন তিনি।রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে জীবনে একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং আইসিটি আইনের মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় তাঁকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় তিনি ৪২ দিন কারাভোগ করেন। একই ঘটনার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আরও দুটি মামলায় তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং এ কারণে তিনি আরও ৬৩ দিন কারাভোগ করেন।
২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে ফেনীর লালপোল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় হস্তান্তর করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তিনি প্রায় ১৮৬ দিন কারাভোগ করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া একই বছরের ২০ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা আরেকটি আইসিটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৯৮ দিন কারাভোগ করেন।পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৮ মার্চ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় তিনি আরও ৭৪ দিন কারাভোগ করেন।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে একই কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমাজবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী জানান, দেওয়ান মাহামুদ লিটা দলের দুঃসময়ে সক্রিয় থাকা একজন ত্যাগী নেত্রী। আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে তাকে বিবেচনা করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে দেওয়ান মাহামুদ লিটা বলেন, গাইবান্ধা তাঁর স্বামীর বাড়ি হলেও এখানকার মানুষ তাকে আপন করে নিয়েছেন। এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।তিনি বলেন, “আমি সব সময় দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। সুযোগ পেলে গাইবান্ধার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”তবে স্থানীয় পর্যায়ে তার মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
Comments (0)
You must be logged in to post a comment.